পুঁজিবাজারে টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির ২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দিনভর এক্সচেঞ্জটিতে কোম্পানিটির ৬ লাখ ২০ হাজার ৪৭১টি শেয়ার ২ হাজার ২৫০ বার হাতবদল হয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৩৪৪ টাকা ১০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৪২ টাকা থেকে ৩৪৫ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে গ্রামীণফোনের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৭০ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোন। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোণ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১২৫ শতাংশ অন্তবর্তী লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২২ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৫ টাকা ২৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪ টাকা ২২ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৬ টাকা ৯৪ পয়সা।
গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ৫১০ কোটি ১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৯৮ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।